
পান্তা ভাত খাওয়া গ্রামের সেই ছেলেটা আজ বাংলার মুখ্যমন্ত্রী।যে ছেলেকে কাঁথির মানুষ বুবাইদা বলে চিনত, আজ তাকে গোটা বাংলা চেনে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী নামে। এ যেন এক রাজনৈতিক লড়াই, অপেক্ষা আর প্রত্যাবর্তনের ইতিহাস।
পূর্ব মেদিনীপুরের কাঁথি থানার করকুলি গ্রামের ছেলে শুভেন্দু অধিকারী আজ পশ্চিমবঙ্গের নবম মুখ্যমন্ত্রী। শুধু তাই নয়, বাংলার ইতিহাসে বিজেপির প্রথম মুখ্যমন্ত্রী হিসাবেও নাম লিখিয়ে ফেললেন তিনি।
১৯৭০ সালের ১৫ ডিসেম্বর অবিভক্ত মেদিনীপুর জেলার করকুলিতে জন্ম শুভেন্দুর। বাবা শিশির অধিকারী এলাকার প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব। ছোটবেলা থেকেই রাজনৈতিক আবহের মধ্যেই বড় হওয়া। তবে বিলাসবহুল জীবন নয়, গ্রামের সাধারণ পরিবেশেই বেড়ে ওঠা শুভেন্দুর। এলাকায় আজও অনেকেই তাঁকে বুবাইদা বলেই ডাকেন। ছাত্র রাজনীতি থেকেই রাজনৈতিক হাতেখড়ি। কাঁথি প্রভাত কুমার কলেজে ছাত্র পরিষদের রাজনীতি দিয়ে শুরু। পরে তৃণমূল কংগ্রেসে যোগদান। তবে তাঁর রাজনৈতিক উত্থানের আসল মোড় আসে নন্দীগ্রাম আন্দোলনের সময়। জমি আন্দোলনের সেই উত্তাল দিনে শুভেন্দু হয়ে ওঠেন পূর্ব মেদিনীপুরের রাজনৈতিক মুখ।
তৃণমূলে গুরুত্বপূর্ণ একাধিক দায়িত্ব সামলালেও সময়ের সঙ্গে দলের শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে দূরত্ব বাড়তে থাকে। অবশেষে দল ছেড়ে বিজেপিতে যোগদান।
২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে নন্দীগ্রামে সরাসরি মুখোমুখি হন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের। সেই নির্বাচনে মমতাকে হারিয়ে রাজ্য রাজনীতিতে বড় বার্তা দিয়েছিলেন শুভেন্দু। যদিও তখন বিজেপি সরকার গঠন করতে পারেনি।তবে পাঁচ বছরের অপেক্ষা।আর তারপর ২০২৬।
এবার নন্দীগ্রাম এবং ভবানীপুর দুই কেন্দ্র থেকেই প্রার্থী হন শুভেন্দু অধিকারী। ভবানীপুরে ফের মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে পরাজিত করেন তিনি। শুধু একজন নেত্রী নয়, গোটা তৃণমূল সরকারেরই পতন ঘটে বাংলায়।
বৃহস্পতিবার কলকাতায় এসে বিজেপি নেতা তথা দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ আনুষ্ঠানিকভাবে শুভেন্দু অধিকারীর নাম ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে।তারপর শুক্রবার ব্রিগেডের ময়দানে লক্ষাধিক মানুষের উপস্থিতিতে শপথ নিলেন শুভেন্দু অধিকারী।
আর সেই মুহূর্তেই যেন বদলে গেল কাঁথির আকাশ।কাঁথির রাস্তায় শুরু হয় আবির খেলা, বাজি, মিষ্টি বিলি। “বুবাইদা জিন্দাবাদ” স্লোগানে মুখর হয়ে ওঠে এলাকা।শুধু রাজনৈতিক কর্মীরাই নন, শুভেন্দুর পরিবারের সদস্যদের মধ্যেও দেখা গেল আবেগঘন মুহূর্ত।
মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পর শুভেন্দুর বাবা শিশির অধিকারী বলেন
“ছোটবেলা থেকেই ওর মধ্যে নেতৃত্বের গুণ ছিল। মানুষের জন্য কাজ করত। আজ বাংলার মানুষ ওকে আশীর্বাদ করেছে।”
অন্যদিকে মা গায়ত্রী অধিকারীকেও দেখা গেল খুশির মেজাজে। শান্তি কুঞ্জে বসে পান খেতে খেতেই ছেলের সাফল্যে আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন তিনি।
: শুধু বাবা-মা নন, শুভেন্দুর মাসি মুক্তি ভট্টাচার্যও শুভেন্দু অধিকারী মুখ্যমন্ত্রী হওয়ায় উচ্ছ্বসিত।
গ্রামের পান্তা ভাত খাওয়া সেই ছেলেটাই আজ রাজ্যের প্রশাসনিক ভবনের সর্বোচ্চ চেয়ারে।কাঁথির “বুবাইদা” আজ বাংলার মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।এখন খবর কাঁথি।

