ফেটে গেল মহুয়ার ঢোল

দুর্নীতি যেন পিছা ছাড়তে নারাজ তৃণমূলীদের! রাজ্যের একের পর এক নেতা মন্ত্রী রয়েছেন জেলে। তার সাথে এবার নতুন দুর্নীতির পালক গজিয়ে সাংসদ পদ থেকে বহিষ্কৃত করা হলো তৃণমূলের মহুয়া মৈত্রকে। এবার কি মহুয়া মৈত্রের এক পয়সাও দাম থাকলো ?

কর্মের ফল যে বাতাসে নড়ে না , এবার কি হাড়ে হাড়ে টের পেল মহুয়া ! মহুয়ার মৌচাক থেকে উড়ে গেল মৌমাছি। মৌচাকে আর মধু নেই। তাই মহুয়ার মৌচাক থেকে মৌমাছি উড়ে অন্য চাকে বসেছে। মহুয়ার ঢোল এবার ফেটে গেছে। এবারে কি দিন শেষ মহুয়া মৈত্রের ? অন্যকে অপমানের ফল এবার হাড়ে হাড়ে টের পাচ্ছে। সাংসদ পদ থেকে বহিস্কার করা হলো মহুয়াকে। এবার কি হবে মহুয়ার ? মহুয়ার চকে কি মধু শেষ! আগের বছর এমন সময়ে সাংবাদিকদের সম্বন্ধে অপমান জনক মন্তব্য করেছিলেন মহুয়া মৈত্র। সাংবাদিকদের ‘দু পয়সার সাংবাদিকদ বলে অপমান করে ছিলেন। আর এই নিয়ে উত্তাল হয়ে উঠেছিল রাজ্যের রাজনৈতিক মহল। সেই সাথে মহুয়ার বিরুদ্ধে ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে জেলা ওরাজ্যের প্রেস ক্লাব গুলো। আর এবার সেই মহুয়াকেই সাংসদ পদ থেকে বহিষ্কার করা হল ঘুষ কান্ডে। এবার মহুয়া কি হলো ? এবারে দু পয়সার ও দাম থাকলো না মহুয়ার। গতবছর একটি কর্মীসভায় গিয়ে মহুয়া সবাইকে বলেন মোবাইল রেকর্ডিং না করতে। তবে আচমকা এক সাংবাদিককে দেখে ক্ষিপ্ত হয়ে উঠেছিলেন তিনি। সেই সময় মহুয়া বলে ওঠেন ‘কে এই দু’পয়সার প্রেসকে ভেতরে কে ডাকেছে ? এখানে কর্মীদের নিয়ে বৈঠক হচ্ছে। আর সবাই টিভিতে তখন মুখ দেখাতে ব্যস্ত রয়েছেন। আমি নির্দেশ দিচ্ছি, প্রেসকে সরান’। তারপর থেকেই প্রতিবাদ মুখর হয়ে ওঠে জেলা ও রাজ্যের সাংবাদিকরা। যে সাংবাদিকরা সর্বদা সত্য উৎঘাটনে নিজেদের জীবন পাত করে থাকেন। তাদের পারিশ্রমিক জাই হোক না কেন, তাদের অপমান করার অধিকার কে দিয়েছে আপনাকে ?

দেখলেন তো মহুয়া, পাপ কিন্তু বাপ কেও ছাড়ে না। দেখলেন তো,সেদিন সাংবাদিকদের অপমানের ফল কিরকম হাতে নাতে পেলো মহুয়া।

সাংবাদিকদের অপমানের ঠিক এক বছর পরেই ঘুষের বিনিময়ে সংসদে প্রশ্ন করার অভিযোগে এথিক্স কমিটির সুপারিশে লোকসভা থেকে বহিষ্কৃত হতে হল মহুয়া মৈত্রকে। যদিও সাংসদ পদ খোয়ানোর পরেও মহুয়ার মেজাজে কোনও পরিবর্তন আসেনি। সংসদ থেকে বেরিয়ে সাফ জানিয়েদিলেন, ফের সংসদে ফিরে আসবেন তিনি। কোথা থেকে পান এতো সাহস?

সেই সাথে তিনি এটাও জানিয়ে দেন, ‘বিজেপির শেষের শুরু হল এখান থেকেই’। সেই সাথে আগামী ৩০ বছর লোকসভার ভিতরে এবং বাইরে লড়াই করার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তৃণমূলের বহিষ্কৃত সাংসদ। তারপর থেকেই দেশের বিভিন্ন স্তরের মানুষ মহুয়ার সমালোচনায় মুখর হয়ে উঠেছেন। নেটিজনদের মতে, মহুয়ার এই কথাবার্তায় কেবল অহং এবং ঔদ্ধত্য প্রকাশ পায়। তবে ইতিহাস সাক্ষী আছে, ঔদ্ধত্যই মানুষের পতন ডেকে আনে।

কথায় আছে অহংকার পতনের কারণ। অহংকার করলে তার ফল ভোগ করতেই হবে। আগেও অহংকার করেছিল তার ফলে সংসদ খোয়ালো, আর এখনও অহংকার করছে। এরপর পরবর্তী গন্তব্যস্থল গারোদের ওপারে হবে এটা বোঝাই যাচ্ছে।