চেম্বারে রোগী দেখা ঘিরে তুমুল বচসা, হাতাহাতি

: চিকিৎসাকেন্দ্র মানেই যেখানে মানুষ শেষ ভরসা নিয়ে ছুটে আসে সুস্থতার আশায়। কিন্তু অনেক সময় সেই চিকিৎসাকেন্দ্রই পরিণত হয় উত্তেজনা ও সংঘর্ষের মঞ্চে। রোগী দেখানোকে কেন্দ্র করে বচসা, চিকিৎসা পরিষেবা নিয়ে ক্ষোভ কিংবা ‘আগে রোগী দেখানো’ নিয়ে বিতর্ক এমন নানা কারণেই মাঝেমধ্যেই হাসপাতাল ও প্রাইভেট চেম্বারে উত্তপ্ত পরিস্থিতির খবর সামনে আসে। কখনও তা তর্কে সীমাবদ্ধ থাকে, আবার কখনও পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যেখানে চিকিৎসক ও রোগীর পরিবারের মধ্যে সরাসরি সংঘর্ষ বাধে। ঠিক তেমনই এক অস্বস্তিকর ঘটনার সাক্ষী থাকল পূর্ব মেদিনীপুরের এগরা, যেখানে একটি প্রাইভেট চেম্বার ঘিরে মুহূর্তের মধ্যে তৈরি হয় তীব্র উত্তেজনা, বচসা গড়িয়ে যায় হাতাহাতি ও মারামারিতে।

সোমবার সন্ধ্যায় এগরা পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডে ডাক্তার তপেন্দু মান্নার প্রাইভেট চেম্বারকে কেন্দ্র করে ডাক্তার ও স্থানীয় কাউন্সিলরের পরিবারের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ। এই ঘটনাকে ঘিরে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে এবং কিছু সময়ের জন্য পরিস্থিতি কার্যত রণক্ষেত্রের আকার নেয়।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সোমবার সন্ধ্যায় এগরা পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর দেবদুর্লভ মাইতির স্ত্রী ও শাশুড়ি অসুস্থতা নিয়ে চিকিৎসার জন্য ডাক্তার তপেন্দু মান্নার চেম্বারে যান। পরিবারের সদস্যদের দাবি, রোগীর শারীরিক অবস্থা খারাপ থাকায় তাঁরা ডাক্তারবাবুকে দ্রুত রোগী দেখার জন্য অনুরোধ জানান। এই বিষয়টি নিয়েই প্রথমে ডাক্তারের সহযোগী কম্পাউন্ডারের সঙ্গে তাঁদের কথা কাটাকাটি শুরু হয়।

ক্রমশ পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছান কাউন্সিলর দেবদুর্লভ মাইতি। অভিযোগ, এরপরই দুই পক্ষের মধ্যে তীব্র বচসা শুরু হয় এবং তা দ্রুত হাতাহাতি ও মারামারির রূপ নেয়।

কাউন্সিলরের পরিবারের অভিযোগ, ডাক্তার তপেন্দু মান্না তাঁদের পরিবারের মহিলাদের সঙ্গে অভব্য আচরণ করেন এবং পরিস্থিতি উত্তপ্ত হলে কাউন্সিলরকেও মারধর করা হয়। অন্যদিকে ঘটনাকে কেন্দ্র করে চেম্বারের বাইরে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যেও ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। অল্প সময়ের মধ্যেই বহু মানুষ জড়ো হয়ে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন।

যদিও এই ঘটনার বিষয়ে ডাক্তার তপেন্দু মান্নার পক্ষ থেকে এখনও পর্যন্ত কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।ঘটনার খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় এগরা থানার পুলিশ। পুলিশের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে এবং বড় ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়ানো সম্ভব হয়।

একটি প্রাইভেট চেম্বারে রোগী দেখানোকে কেন্দ্র করে এমন সংঘর্ষের ঘটনায় ইতিমধ্যেই এলাকায় শুরু হয়েছে জোর আলোচনা। চিকিৎসাকেন্দ্রে এমন অশান্তির ঘটনায় প্রশ্ন উঠছে শৃঙ্খলা ও পারস্পরিক আচরণ নিয়েও। পুরো ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।ব্যুরো রিপোর্ট এখন খবর।