ভোটের আগে নড়ে উঠল ঘুঁটি! বিজেপিতে বিরাট ভাঙন!

রাজনীতির অঙ্কে একটা কথা বারবারই শোনা যায় ।ভোট যত এগিয়ে আসে, ততই বদলাতে থাকে শিবির, বদলে যায় সমীকরণ। যে দলে একসময় শক্ত ঘাঁটি ছিল, ভোটের মুখে সেখানেই দেখা যায় ফাটল। পূর্ব মেদিনীপুরের মহিষাদলেও বিধানসভা ভোটের আগে ঠিক তেমনই এক রাজনৈতিক সমীকরণ বদলের ছবি সামনে এল। কুমুদিনী ডাকুয়া মুক্তমঞ্চে তৃণমূল কংগ্রেসের বর্ধিত কর্মীসভা থেকে বিজেপি ও সিপিএম ছেড়ে একঝাঁক নেতা-নেত্রী তৃণমূলে যোগদান করেন। তাদের হাতে দলীয় পতাকা তুলে দেন জেলা পরিষদের সভাধিপতি তথা বিধায়ক উত্তম বারিক, বিধায়ক তিলক চক্রবর্তী, জেলা তৃণমূল সভাপতি সুজিত রায়, জেলা পরিষদের কর্মাধ্যক্ষ মানস পণ্ডা এবং ব্লক তৃণমূল সভাপতি সুদর্শন মাইতি সহ অন্যান্য নেতৃত্ব।তৃণমূলে যোগদানকারীদের মধ্যে রয়েছেন লক্ষ্যা-১ গ্রাম পঞ্চায়েতের বিজেপির উপপ্রধান অনন্ত বেরা, লক্ষ্যা-২ গ্রাম পঞ্চায়েতের বিজেপির প্রাক্তন যুব মোর্চা নেতা সুব্রত চৌধুরী, কিসমৎ নাইকুন্ডি এলাকার একাধিক কর্মী এবং সিপিএমের প্রাক্তন পঞ্চায়েত সদস্যা ছন্দা বর্মন ধাড়া সহ আরও বেশ কয়েকজন।রাজনৈতিকভাবে এই যোগদানকে গুরুত্বপূর্ণ বলেই মনে করা হচ্ছে। কারণ লক্ষ্যা-১ গ্রাম পঞ্চায়েতে মোট ১৬টি আসনের মধ্যে পঞ্চায়েত নির্বাচনে বিজেপি ও তৃণমূল উভয়েই ৮টি করে আসন পেয়েছিল। পরে টসে জিতে বিজেপি বোর্ড গঠন করে। কিন্তু এবার উপপ্রধান অনন্ত বেরা বিজেপি ছেড়ে তৃণমূলে যোগ দেওয়ায় সমীকরণ পাল্টে গেল। বর্তমানে ওই পঞ্চায়েতে তৃণমূলের আসন বেড়ে দাঁড়াল ৯ এবং বিজেপির কমে হল ৭। রাজনৈতিক মহলের মতে, খুব শিগগিরই অনাস্থা প্রস্তাব এনে লক্ষ্যা-১ গ্রাম পঞ্চায়েতের বোর্ড তৃণমূলের দখলে আসতে পারে।

যোগদানকারীদের বক্তব্য, বিজেপিতে থেকে মানুষের উন্নয়নের কাজ করা সম্ভব নয়। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যেভাবে রাজ্যজুড়ে উন্নয়নের কাজ করছেন, তাতে সামিল হতেই তারা তৃণমূলে যোগ দিয়েছেন।
এই প্রসঙ্গে স্থানীয় বিধায়ক তিলক চক্রবর্তী বলেন, বিজেপির রাজনীতি মূলত হিংসা ও বিভাজনের রাজনীতি। সেই দলে থেকে উন্নয়নের কাজ করা যায় না। তাঁর দাবি, আগামী বিধানসভা নির্বাচনে পূর্ব মেদিনীপুর জেলা বিজেপি শূন্য হবে।

রাজনৈতিক মহলের মতে, একের পর এক দলবদল ও পঞ্চায়েতের সমীকরণ বদল ইঙ্গিত দিচ্ছে বিধানসভা ভোটের আগে পূর্ব মেদিনীপুরের রাজনীতি আরও উত্তপ্ত হতে চলেছে।ব্যুরো রিপোর্ট এখন খবর ।